🇺🇿 উজবেকিস্তান · সাদা নেকড়ে

আমি সিল্ক রোড ধরে সাত দিন ভ্রমণ করেছি, দেখলাম মার্কো পোলো অনেক কিছুই বাদ দিয়েছেন

প্রাচীন বাণিজ্য পথে আধুনিক উত্তর খোঁজা

সামারকন্দের রেজিস্তান (Registan) চত্বর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে এক অদ্ভুত সোনালি রঙ ধারণ করে যা আপনি আগে কখনও দেখেননি। তিনটি মাদ্রাসার নীল টাইলস ইসলামি জ্যামিতির শীতলতা থেকে জেগে ওঠে, সূর্যের শেষ তাপ শোষণ করতে শুরু করে। এক বৃদ্ধ ডালিমের রস বিক্রেতা ভাঙা ইংরেজিতে আমাকে বলে: 'এই জায়গাটি ছয়শ বছর আগেও একটি বিতর্কের মাঠ ছিল—তিনটি মাদ্রাসার ছাত্ররা এখানে তর্ক করত, ধর্মতত্ত্ব, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত—সব বিষয়েই।' তারপর সে আমার গ্লাসে লবণ যোগ করে বলে: 'পান করো। ডালিমের রসে চিনি না দিলেই সিল্ক রোডের স্বাদ পাওয়া যায়।'

সে ঠিক ছিল। চিনি ছাড়া ডালিমের রসের তীক্ষ্ণ টক স্বাদ আছে, যেন এই ভূমির সব বিলীয়মান জিনিসের শেষ আভাস। আর আমার প্রশ্ন ছিল: সিল্ক রোডে আসলে কী অবশিষ্ট আছে?

উজবেকিস্তান - Registan Square
উজবেকিস্তান · Registan Square

উজবেকিস্তানের জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি, যা মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং বিশ্বের দুটি দ্বৈত-অভ্যন্তরীণ দেশের একটি (অন্যটি লিশটেনস্টাইন)। স্থলবেষ্টিত একটি দেশের জন্য, সিল্ক রোড শুধু ইতিহাস নয়—এটি বিশ্বে এই দেশের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২০২৬ সালে, হোয়াইট উলভস (উজবেক জাতীয় দল) প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিত হবে। অনেক ভক্তের জন্য, এটি প্রথমবার যখন তারা 'উজবেকিস্তান কোথায়' সার্চ করে।

প্রথম দিনটি তাসখন্দের জন্য। তাসখন্দের মেট্রো ব্যবস্থা শুধু একটি পরিবহন মাধ্যম নয়—এটি সোভিয়েত যুগের উজবেকিস্তানে রেখে যাওয়া সবচেয়ে অদ্ভুত ঐতিহ্য। প্রতিটি স্টেশন একটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম: আলিশের নাভোই (Alisher Navoi) স্টেশনের গম্বুজে মধ্য এশিয়ার কবির প্রতিকৃতি আঁকা, কোসমোনাভটলার (Kosmonavtlar) স্টেশনের দেয়ালে গ্যাগারিন থেকে উজবেক মহাকাশ নায়ক পর্যন্ত সব মহাকাশচারীকে সম্মান জানানো হয়েছে। একজন মেট্রো নিরাপত্তাকর্মী আমার বিদেশি মুখ দেখে ভ্রু কুঁচকে, তারপর হাত নেড়ে দেয়—স্থানীয়রা কার্ড ব্যবহার করে, বিদেশিরা বিনামূল্যে, এটি তাসখন্দের অলিখিত নিয়ম।

দ্বিতীয় দিন আমি সামারকন্দ行গামী হাই-স্পিড ট্রেনে। জানালার বাইরের দৃশ্য শহরের ধূসর থেকে তুলার সাদা, তারপর কারাকুম মরুভূমির প্রান্তের বাদামি রঙে রূপান্তরিত হয়। পাশের আসনের যুবকটি অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে জিজ্ঞেস করে আমি কোথা থেকে এসেছি, তারপর গর্ব করে ফোনে উজবেক দলের বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হওয়ার খবরের স্ক্রিনশট দেখায়। 'আবদুকোদির খুসানভ (Abdukodir Khusanov),' সে পর্দায় বিশ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে দেখিয়ে বলে, 'সে লাঁসে খেলে। ফরাসিরা এখন তাসখন্দ চেনে।'

উজবেকিস্তান - Khiva
উজবেকিস্তান · Khiva

তৃতীয় ও চতুর্থ দিন সামারকন্দ ও বুখারার জন্য। সামারকন্দের নীল টাইলস ছবির চেয়েও গাঢ়—সেই নীল যেন ভূমধ্যসাগরের তলা থেকে তোলা, কিন্তু মধ্য এশিয়ার সূর্যে শুকিয়ে গেছে। বুখারার পুরনো শহরে আমি তিন ঘণ্টা হারিয়ে গিয়েছিলাম। শহরটি বড় বলে নয়, বরং প্রতিটি খোলা কাঠের দরজার পিছনে যেন আরেকটি যুগের পথ খুলে যায়। একজন রেশম ব্যবসায়ী তার দোকানে বসে—আসল রেশম, ফারগানা উপত্যকা থেকে আনা, মঞ্জিস্টের মূল দিয়ে রাঙানো লাল—সে দেখে আমি লাল রেশমের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে আছি, বলে: 'জানো, মার্কো পোলো এই রঙের কথা লেখেনি। সে বলেছে উজবেকের রেশম সস্তা, কিন্তু লাল রঙের কথা সে লেখেনি।'

পঞ্চম দিন খিভা (Khiva)। এই মাটির রঙের প্রাচীর ঘেরা প্রাচীন শহর দুপুরের রোদে প্রায় জনশূন্য। আমি কালতা মিনার (Kalta Minor) মিনারের ছায়ায় বসে আছি, এক বৃদ্ধ ধীরে ধীরে এসে আমার পাশে বসে। 'পর্যটকরা বিকেল চারটায় আসে,' সে বলে, 'সকালটা খিভার নিজের সময়।' আমরা অনেকক্ষণ চুপ করে থাকি। তারপর সে দূরে ওড়া একটি উজবেক পতাকা দেখিয়ে বলে: 'ওই ফুটবল মাঠটা দেখছ? আগে ঘোড়ার আস্তাবল ছিল। সিল্ক রোডের সময়, ব্যবসায়ীরা এখানে ঘোড়া বদলাত। এখন তরুণরা সেখানে ফুটবল খেলে। বদলের জিনিস বদলেছে, কিন্তু রাস্তাটা এখনও একই।'

ষষ্ঠ দিন রাতের ট্রেনে কেটেছে—খিভা থেকে তাসখন্দ ফেরার পথে, মরুভূমির প্রান্ত ধরে। বগির রেডিওতে ভেসে আসা শব্দ, মধ্য এশিয়ার উচ্চারণে রুশ পুরনো গান বাজছে। জানালার বাইরে মাঝে মাঝে উটের পাল ও বিচ্ছিন্ন আলো দেখা যায়। বুখারার সেই রেশম ব্যবসায়ীর কথা মনে পড়ে, সামারকন্দের সোনালি রঙের কথা, তাসখন্দ মেট্রোর সেই নিরাপত্তাকর্মীর ভ্রু কুঁচকানোর কথা। তারপর ফোনে আবদুকোদির খুসানভের (Abdukodir Khusanov) লিগ ওয়ানের ম্যাচের হাইলাইটস খুলি—একুশ বছর বয়সী এক উজবেক যুবক ফ্রান্সের মাঠে স্লাইড ট্যাকল, পিছু ধাওয়া, লম্বা পাস দিচ্ছে।

উজবেকিস্তান - Tashkent metro
উজবেকিস্তান · Tashkent metro

সপ্তম দিন, তাসখন্দে ফিরে আসা। রোদ সাত দিন আগের মতোই শুষ্ক ও গরম। কিন্তু আমি ফিরিয়ে এনেছি ছবি ও স্মারক নয়, বরং একটি প্রশ্নের উত্তর: সিল্ক রোডে কিছুই 'অবশিষ্ট' নেই—এটি শুধু অস্তিত্বের রূপ বদলেছে। মশলা হয়ে গেছে ফুটবল অর্থনীতি, কাফেলা সরাই হয়ে গেছে হাই-স্পিড ট্রেন স্টেশন, রেশম হয়ে গেছে খেলোয়াড় স্থানান্তর চুক্তি। মার্কো পোলো শুধু সেই লাল রেশমের রঙ বাদ দেয়নি—সে বাদ দিয়েছে এই পথের মানুষরা কখনো সত্যিই চলে যায় না। তারা শুধু উট বদলেছে ট্রেনে, মশলা বদলেছে ফুটবলে।

Discover more countries

Travel stories from other countries

← View all stories · Country travel guide